আমার প্রিয় পোস্ট
- হলুদ দেয়ালের টিকটিকি - নাজনীন খলিল
- ছুটি - আশরাফ মাহমুদ
- গল্প : অপেক্ষা - একরামুল হক শামীম
- মানুষ - সবাক
- আমার বামহাতটা কব্জির নীচ থেকে উড়ে গিয়েছিলো ............... - হনলুলু
- "আমার বন্ধু অনিক" ( জনমানুষের ভীড়ে আরণ্যকের স্মৃতিজঞ্জাল ) - আরণ্যক যাযাবর
- কব্জিতে শুধুই শেকলের দাগ ----- - বিষাক্ত মানুষ
- (প্রিয় কবিতা-১/মহাদেব সাহা) মানুষের বুকে এতো দীর্ঘশ্বাস - তানজু রাহমান
- ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২২ ( মানুষ--নির্মলেন্দু গুণ) - আবদুর রাজ্জাক শিপন
- মানুষের মহারাজা,তোমাকে অভিবাদন - ফারহান দাউদ
- অন্তর্দহন অতঃপর ...................... (গল্প) - রন্টি চৌধুরী
- কাজলাদিদি .............. উতসর্গ আউলাদি - হনলুলু
- ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৫ (হায় চিল--জীবনানন্দ দাশ) - আবদুর রাজ্জাক শিপন
- কি সখী ডরাইলা! - রাশেদ
- একাত্তরের গণহত্যা ও নারী নির্যাতনঃ কিছু সাক্ষীর বয়ান - রাশেদ
- আমারেই পাবে তুমি ইহাদের ভীড়ে
(উৎসর্গ: প্রিয় ব্লগার মানুষকে) - মুকুল
- টুকুনের জন্য । - নরাধম
- প্রিয় কবিতা সংকলন (নিজের লেখা) - মানুষ
- মুক্তি - আউলা
- লাল গাড়ি আর লাল বালিকার গল্প - নিধিরাম সর্দার
- সেই সব মা জননীদের আমাদের প্রনাম - ইরতেজা
- ক্লান্তিকর পরবাস ; তোমার কাছে ফেরার নিস্ফল রোদন ! - আহমেদ শারফুদ্দীন
- বিশ্বাস করো , আজ তোমাকেই চাইতাম - রাগ ইমন
- একটা ব্লগ লিখেই ফেলি সমাজ বদলের (ব্লগ লিখলেই সমাজ বদল হয় না):২ - উদাসী স্বপ্ন
- একটি মৃত্যু আর আমার যত আক্ষেপ - ডাক্তার আইজউদ্দিন
- কথা দাও - কালপুরুষ
- পথ আগলে থাকা কোন এক নারীকে (সূফীর কবিতাঞ্জাল) - সূফি
- প্রুফ রিডার - ফয়সল
- যদি মানুষ হতাম! - রাগ ইমন
ক্রীতদাস
০৯ ই নভেম্বর, ২০০৭ ভোর ৫:১৪
দাস প্রথা নাকি পৃথিবী থেকে উঠে গেছে। মানুষগুলো পেয়েছে তাদের মানবাধিকার। কি জানি, আমি এসব বুঝি না। এক সময় ঢাকার মিরপুরে থাকতাম। মিরপুর এক নম্বরে। সকালে দেখা যেত এক নম্বর গোল চত্বরের সামনে কিছু মানুষ টুকরি আর কোদাল নিয়ে বসে আছে। তারা বসে থাকে নিজেদের বিক্রি করার জন্য। ক্রেতারা আসে, বেছে বেছে স্ব্যাস্থবান সুঠাম দেহিদের কিনে নিয়ে যায় নাম মাত্র মুল্যে। যারা দুর্বল, যাদের শক্তি ফুরিয়ে এসেছে, নির্বাক চোখে চেয়ে থাকে ক্রেতাদের দিকে, যদি একটু দয়া হয় তাদের। এক বেলা আহার্যের ব্যাবস্থা করে দেয় যদি তারা, এক মুঠো ভাত আর শাক পাতা, সাথে থাকবে একটা কাঁচা মরিচ আর একটু লবণ। তাদের দেখেও না দেখার ভান করে চলে যায় ক্রেতারা, যেভাবে বিধাতা মুখ ফিরিয়ে রাখে।
এমন এক জনের সাথে একবার কথা হয়েছিল। রিক্সা চালাতো সে, বাড়ি রংপুর। তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম এতো কাজ থাকতে রিক্সা চালাচ্ছেন কেন? সে বলল নিজে বিক্রি না করতে পারার কাহিনীটা। রংপুরে বড় রাস্তার ধারে বসে থাকতো নিজেকে বিক্রীর জন্য। কিন্তু ক্রেতা নেই। এক দিন, দুই দিন, তিন দিন চলে যায় নিজেকে বেচতে পারে না তবুও। বাড়িতে অপেক্ষারত ক্ষুধার্ত স্ত্রী-পুত্র কন্যারা। কিভাবে মুখ দেখাবে তাদের, খাবার না নিয়ে। নিজের পেটেও আহার নেই তিন দিন। বিধাতা তাকে কিছু দেয়নি পেট ভর্তি ক্ষুধার যন্ত্রনা ছাড়া। সেই অসীম যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে মাঠে জন্মানো ঘাস চিবাতো বসে বসে। মানুষ হয়ে পশুর মতো ঘাস খেতে হয়। হায় মানবাধিকার! তোমার কথা শুধু বইয়ের পাতায় লেখা থাকে।
আমার এক কাজিন আছে। গত তিন বছর হল সে মাস্টার্স শেষ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আর এখন শুধু জুতোর শুকতলা ক্ষয় করে চলেছে একটা চাকরির জন্য, মানে নিজেকে বিক্রি করার জন্য। তার বাবা-মা অবিরত তাগিদ দিয়ে যাচ্ছে, কেন নিজেকে বিক্রি করছনা। তাহলেইতো সংসারে কিছু স্বচ্ছলতা আসে। প্রতিদিনের নাস্তার টেবিলে রুটি আলু ভাজির সাথে একটা ডিম সেদ্ধরও বন্দোবস্ত করা যায়। বেচারা শুধু সারাদিন ঘুরে মরে, কোথাও নিজের উপযুক্ত মুল্য মেলে না। নিজেকে বিক্রী করা হয় না।
কে বলে পৃথিবী থেকে দাস প্রথা উঠে গেছে। আমাদের অভ্যস্ত চোখে সেসব আর ধরা পড়ে না। আসলে আমরা সবাই নিজেকে বিক্রির প্রতিযোগিতায় ব্যাস্ত। চাহিদা অনুযায়ী মূল্য ওঠা নামা করে আমাদের। আসলে পৃথিবী থেকে দাস প্রথা উঠে যায়নি কখনো। আমরা একে অন্যকে কিনি, নিজেকে বেচে দিই। আমরা সবাই জীবনের কাছে, ক্ষুধার কাছে আজীবন দাস হয়ে আছি। অবিরত ভাবছি কবে মুক্তি মিলবে। আসলে আমরা সবাই ক্রীতদাস।
জেনারেল বলেছেন:
কৃতদাস হবে
মানুষ বলেছেন:
ধন্যবাদ, বানান ঠিক করে দেয়া হল @ জেনারেল
বিহংগ বলেছেন:
মানুষ, মিরপুরের সেই লাইন এই আমেরিকায় ও পাবেন।প্রায়শই দেখা যায় কোনো গ্যাস স্টেশনের সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে শ্রম বিক্রির আশায়।
মানুষ বলেছেন:
বিপদে আছি। তিন রকমের বানানের সাজেসন পাইছি। ক্রিতদাস, ক্রীতদাস, কৃতদাস। কোনটা সত্যি? আমি ভ্যাবাচেকা।
মানুষ বলেছেন:
ঠিক আছে, কিছুক্ষন আপনারটা রাখি, দেখি পাবলিক কি কয় @ নূরা পাগলা
নু রা পা গ লা বলেছেন:
হ, জনগনই হইল আছল।
মানুষ বলেছেন:
নাদু, খবর কি? তোমার ডায়রিয়া আর আগাইতেছেনা কেন?
নাজিম উদদীন বলেছেন:
মানুষ আসলে স্বভাবের দাস।
মানবী বলেছেন:
জীবিকা নির্বাহের জন্য শ্রম আর নিজেকে বিক্রি করা এক হলো!
মানুষ বলেছেন:
মানুষ বদঅভ্যাসের দাস @ নাজিম উদদীন হ্যাঁ, এক হল। যেটা করতে পারি, যেটা করতে চাই সেটা বাদ দিয়ে সব সময় অন্য কিছু করতে হয়। এটাকে নিজেকে বিক্রি করা ছাড়া আর কি বলব? @ মানবী
মানবী বলেছেন:
এক হলো না। কৃতদাসের জীবন এমন আনন্দের নয়। কেউ চিকিৎসক, প্রকৌশলী হবার ইচ্ছে অথচ অন্য কোন পেশা বেছে নিতে হলো, আবার কবিতা লিখে জীবন কাটানোর স্বপ্ন অথচ প্রোগ্রামিং করে জীবিকা নির্বাহ করা... এসবের সাথে কৃতদাসত্ব কে এক করা যায়না।
মানুষ বলেছেন:
আপনি মনে হয় মিরপুরে, রাস্তার ধারে বসে থাকা সেই সব দাসেদের কখনো দেখেন নি @ মানবী
মানবী বলেছেন:
তাঁরা দাস নন, শ্রমজীবি। মিরপুরে দেখিনি তবে নিউমার্কেটের পাশে দেখেছি।সব কর্মজীবিদের মতোই কাজে যান তাঁরা, পার্থক্য এই যে তাঁদের কাজের নির্ধারিত বা নির্দিষ্ট নিয়োগদাতা নেই, স্থায়ি কর্মক্ষেত্র নেই। প্রতিদিন নতুন করে কাজ খুঁজে নিতে হয়। বড় বড় কনসালটেন্ট যাঁরা মাসে ১০,১২ হাজার ডলার রোজগার করেন, ওনারাও কন্ট্রাক্ট ভিত্তিতে কাজ করেন, স্থায়ী কোন চাকুরী বা অফিস নেই।
রোজগারের পার্থক্য টি বেমানান তবে আপনি যে দৃষ্টিতে বর্ণনা করেছেন, সেদিক থেকে হয়তো অবস্থান সমান।
মানুষ বলেছেন:
শ্রমজীবি নামটা দাসের নতুন সংস্করণ। ঝড় হোক, বৃষ্টি হোক দুনিয়া রসাতলে যাক জীবনটা দশটা-পাঁচটার ছকে বাধা। দাসত্ব ছাড়া অন্য কোন নাম খুঁজে পাচ্ছি না।
আরিফুর রহমান বলেছেন:
তাহলে সবাই দাস। সবাই শ্রম/মেধা বিক্রি করে। ভালো করে বললে 'বিনিময়' করে অর্থের সাথে।তবে ইতহিসে দাস বা ক্রীতদাসের কোন স্বাধীন ইচ্ছে থাকতো না। তার 'মালিক' তাকে ব্যাবহার করতো, 'মজুরি'র কোনো বালাই ছাড়াই।
লেখাটা বড়ই সেন্টিমেন্টাল অবশ্য।
মানুষ বলেছেন:
আমিও উত্তর বঙ্গ হইতে আগত @ নাদু
মানুষ বলেছেন:
আমাদের দেশেও সেই প্রথা চালু আছে। কাজের বিনিময়ে খাদ্য আমাদের সরকারের এক মহান কর্মসূচির অংশ @ আরিফুর রহমান
মানুষ বলেছেন:
তুমি কোন জেলা হইতে আগত? আমার বাড়ি সিরাজগঞ্জে @ নাদু
মানুষ বলেছেন:
তুমিতো তাইলে আমার পাশের বাড়ির মানুষ। আসো কোলাকুলি করি।
মানুষ বলেছেন:
গেলাম। কাল সকালে অফিসে যাওয়া লাগবে। কম দুঃখে এই ব্লগ লিখি নাই।
মুনিয়া বলেছেন:
স্পর্শ করল লেখাটা...
আদিপ্ত বলেছেন:
একটি সুন্দর পৃথিবী স্বপ্ন দেখি,থাকবেনা দাসত্ব, থাকবে না অধিনত্ব।
এই লেখা টি প্রকাশ করে সেই সপ্নের বহিঃপ্রকাশ।
ধণ্যবাদ লেখক কে । ৫
রনপি বলেছেন:
সবাই কোন না কোনভাবে ক্রীতদাস
সম্ভব,অসম্ভব বলেছেন:
মূললেখা পড়লাম,সবার মন্তব্য পড়লাম,খুবি ভাল লাগলো। একটা জিনিস যে প্রাচিন যুগে ক্রীতদাস দের একবারে কিনে নেওয়া হত।কেনার পর ক্রীতদাস দের কোন মতামত থাকতো না।তার দাম এবং তার দেওয়া সার্ভিস এর ভিতর পার্থক্য থাকত।যেমন ধরুন ১০ ডলারে একজন ক্রীতদাস কিনল কেউ।১০ ডলার ১০ দিনের মুজুরি কিন্তু তাকে মত্যুর আগ পযন্ত কাজ করিয়ে নিত।বর্তমান যূগের সাথে এটা একটা বড় পার্থক্য যে বর্তমানে শ্রমিক তার মালিকের সাথে চুক্তি করতে পারে। যে সময়ের জন্ন্য তার সাথে কাজের চুক্তি সেই সময় শেষ হলে সে তার নিজের ইছ্ছা মত চলে যেতে পারে।এমন কি সারাদিনের চুক্তি, দুপুর বেলা সে বলতে পারে আমার শরির খারাপ আমি আর কাজ করব না আমার যা মুজুরি হয়েছে দিয়ে দিন। সবচেয়ে বড় কথা শ্রমিক যখন কাজ শুরু করে তখন সে যানে কখন তার কাজ শেষ হবে। আর এই বিষয় টা প্রতিষ্ঠিত করাই ছিল দাস প্রথা উছ্ছেদ এর মুল উদ্দেশ্য।দাস প্রথা উছ্ছেদ মানে এ নয় যে, কেউ কাজ করবে না আললাহর তরফ থেকে খাবার আসবে।সবাই তো শ্রম বিক্রি করে, কেউ শারিরিক কেউ বুদ্ধিভিত্তিক,যে যার সামর্থ্য আনুযাই। এটা যদি দাসত্য হয়। তাহলে দাসত্য বিহিন সমাজ ব্যাবস্তা টা কেমন? সবাই বাড়ি বসে কবিতা লিখবে আর ব্লগি করবে। আল্লার তরফ থেকে খাবার চলে আসবে। কারন এটাই মানুষ করতে চায় এটা বাদ দিয়ে সব সময় অন্য কিছু করতে হলেই তো ক্রীতদাস, তাইনা?
আসলে কি জানেন মানুষ (আমরা সবাই) কি চায় মানুষ নিজেই জানেনা।
আহমেদ শারফুদ্দীন বলেছেন:
এই সভ্য পৃথিবীতে যদি আদৌ দাসপ্রথা থাকে তাইলে একমাত্র আরবের দেশ গুলোতে
রাশেদ বলেছেন:
কনফিউজড।
মানুষ বলেছেন:
সবাইকে ধন্যবাদ। লেখাটি আসলে সমাজ পরিবর্তনের লক্ষে লেখা হয়নি। নিজের ভাবনাটা শুধু প্রকাশ করেছি। জীবনের দাসত্ব থেকে আমাদের কারও মুক্তি নেই।
মৈথুনানন্দ বলেছেন:
পেছনের লজিকটা একটু মনে মনে চিন্তা করে নেবে, তাহলেই আর বানানে সমস্যা হবে না, এখানে যেমন ক্রয় থেকে ক্রীত হয়েছে - তুমি তো বিজ্ঞান শাখায় স্নাতকোত্তর করছো? আচ্ছা, ভালো কথা, সিরাজগঞ্জ কোন জিলার অন্তর্ভূক্ত??
মৈথুনানন্দ বলেছেন:
আগে পাবনার অন্দরে ছিল না?
মানুষ বলেছেন:
হুম আগে পাবনার আন্ডারে ছিল @ মৈথুনানন্দ


















