স্টেরিওটাইপের কথকতা
২৬ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১:১৯
স্টেরিওটাইপ শব্দটা মূলত ঋণাত্মক অর্থেই ব্যবহৃত হয় ... কাউকে তার কোনো বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ঢালাও ভাবে কিছু একটা ভাবাই এর অর্থ। কমেডি ঘরাণার মূল কৌশলগুলোর মধ্যে এটি একটা ... ভাঁড় গোছের চরিত্রকে দিয়ে ভাড়ামি করাতে হলে তাকে স্টেরিওটাইপড করে ফেলা যায়, আর যে গোষ্ঠীর মধ্যে ফেলা, তাদের দুর্নাম যেকারণে, তা দেখিয়ে দর্শকদের (যারা আবার ঐ গোত্রে পড়েনা) বিস্তর আমোদ দেয়া চলে।
বাংলা নাটকে এই রকম স্টেরিওটাইপের ছড়াছড়ি। আশির দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে যেসব নাটক হতো, তার নাট্যকারেরা উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ থেকে আসতেন বলে মনে হয় (হয়তোবা আমিও এখানে স্টেরিওটাইপে ফেলছি তাদের)। সেজন্য অধিকাংশ নাটকেই কমিক রিলিফ চরিত্রটি হতো নোয়াখালী বা চট্টগ্রামের, অবোধ্য অমার্জিত শব্দ চয়নে যাদের বিমল আনন্দ। নাটকের ঘটক হবে গোলটুপী পরা, বাম গালে একটা বড় আঁচিল থাকবে, হাতে একটা ছাতা। আদিবাসী কাউকে দেখাতে হলে তার নাম হবে মলুয়া, কথা বলবে “বটেক”, “বাবু”, “হামি” এরকম ভাষাতে। গ্রামবাসী নায়ক নায়িকার মা কথা বলবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রংপুরের ভাষাতে, অথবা নিতান্তই “শুদ্ধ” ভাষাতে। মুক্তিযোদ্ধা চরিত্রটি হবে হতদরিদ্র, এবং অধুনা-ক্ষমতাধর-পূর্বে রাজাকার মোড়লের হাতে নিগৃহীত। নাটক থেকে সিনেমাতেও আসবে এসব স্টেরিওটাইপ, নায়িকার বড়লোক বাবার নাম হবে অবধারিত ভাবে “চৌধুরী সাহেব”, বাড়ির ভেতরে পরবেন ড্রেসিং গাউন, ধুমপানের পাইপ হাতে সিঁড়ি বেয়ে নামবেন। নায়ক গরীব কিন্তু শিক্ষিত হলে নির্ঘাত হবে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট। বাংলা নাট্যকারদের দোষ দেই কীভাবে, স্বয়ং শেক্সপিয়ারের নাটকে স্টেরিওটাইপের ছড়াছড়ি ... ইহুদি শাইলক হয় ভিলেন, চার্লস ডিকেন্সের অলিভার টুইস্টের ঘৃণ্য ভিলেন ফ্যাগিনকেও দেখানো হয়েছে ইহুদি। সেরকম হালের মারদাঙ্গা টাইপের হলিউডী ছবিতে ভিলেনটা হয় আরব মুসলমান।
নাটক-সিনেমা থেকে বাস্তবতার মধ্যেও একই দশা। হিন্দু হলেই ধরে নেয়া হবে, ব্যাটা একটু পরেই সব কিছু পাচার করে দেবে ভারতে, অথবা আওয়ামী লীগের সমর্থক হবে। কারো মাথায় টুপি থাকলে, বা মুঠোখানেক দাড়ি থাকলে সন্দেহ হবে, জামাত-শিবির কি না। চারুকলা কিংবা স্থাপত্যের ছাত্রদের হতে হবে লম্বা এলোমেলো চুলের সিগারেট ফোঁকা চেহারা, আর বুয়েটের প্রকৌশলবিদ্যার কারিগরেরা হবে চশমাপরা নিরীহ চেহারার বিশিষ্ট আঁতেল। বুদ্ধিজীবীরা হবে ফতুয়া বা পাঞ্জাবী পরা, কাঁধে শাল। সাফারি সুট কিংবা মুজিব কোটে বেরিয়ে আসবে রাজনৈতিক পরিচয়।
এহেন মানসিকতা অব্যাহত থাকবে দেশের বাইরে এলেও। কৃষ্ণাঙ্গ দেখলেই সন্দেহ হবে, ছিনতাই করবে নির্ঘাত এখনই। (আমার এক বাঙালি বন্ধু এই সমস্যাতে পড়ে প্রায়ই ... হুডতোলা জ্যাকেট পরে ক্যাম্পাসের রাস্তা দিয়ে সন্ধ্যায় হেঁটে গেলে নাকি উলটো দিক থেকে আসা ছেলে মেয়েরা সবাই ভয় পেয়ে রাস্তা পেরিয়ে অন্য দিকে হাঁটে)।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বা পাকিস্তানীদের স্টেরিওটাইপ কিছুদিন আগে পর্যন্তও ছিলো মুদী দোকানদার হিসাবে ... ইদানিং অবশ্য গাদায় গাদায় দক্ষিণ এশীয় প্রকৌশলীদের দেখে সেটা কমেছে। ভিলেনের স্টেরিওটাইপের ব্যাপারটা কালে কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পালটে গেছে ... বর্ণবাদের আমলে ভিলেন হতো কৃষ্ণাঙ্গরা ... তাদের “পাশবিকতা” দেখানো হতো, আর শ্বেতাঙ্গ নায়ক অসহায় নায়িকাকে উদ্ধার করতো এই কৃষ্ণাঙ্গ ভিলেনের কবল থেকে। বিংশ শতকের শুরুতে ইতালীয়দের অভিবাসন বেড়ে যায়, আর দরিদ্র ইতালীয় অভিবাসীরা অনেক শ্বেতাঙ্গ মার্কিনীর কাজ আরো কম বেতনে করে হাতিয়ে নেয়। ফলে সে সময়কার গল্প নাটকে সিনেমাতে ভিলেনের স্টেরিওটাইপে এসে পড়ে ইতালীয়রা। ইহুদীবিদ্বেষ অব্যাহত থাকায় ধনী ভিলেন দেখানো হতো এই ধর্মাবলম্বী কাউকে। সত্তরের দশকের শেষ থেকে আশির দশক জুড়ে জাপানি ব্যবসায়ীরা নবলব্ধ বিত্তে কিনতে থাকে আমেরিকার সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, এ সময়ের এশীয়-বিরোধী স্টেরিওটাইপিংটাও লক্ষ্যনীয়। গল্প সিনেমাতে এশীয় পুরুষ হলেই হতো গ্যাংস্টার, ধুর্ত ব্যবসায়ী, কিংবা বেকুব গোছের বোকাসোকা দোকানদার – মূল নায়কের সাথে ভাঙা ভাঙা ইংরেজি বোল বলে হাসির পরিস্থিতি সৃষ্টি করাই তার কাজ।
অবশ্য স্টেরিওটাইপ নিয়ে মস্করাও কম করা হয় না টিভি/সিনেমাতে। জনপ্রিয় মার্কিন কার্টুন দ্য সিম্পসন্সের সবগুলো চরিত্রই ইচ্ছাকৃতভাবে চরম স্টেরিওটাইপড। ভারতীয় মুদী-দোকানী অপু, কুটকৌশলী ব্যবসায়ী মিস্টার বার্ন্স, হোমার সিম্পসন নিজেই – সবই বিভিন্ন স্টেরিওটাইপ, আর ইচ্ছা করেই তাদের বিভিন্ন আচরণ দেখিয়ে স্টেরিওটাইপিংকেই মস্করা করা হয়। একই ব্যাপার দেখি আরেক জনপ্রিয় কার্টুন “ফ্যামিলি গাই”-তে, সবাই সেখানে স্টেরিওটাইপড, সবার কাজই স্টেরিওটাইপ অনুসারে।
স্টেরিওটাইপিং নিয়ে যতই আলোচনা করা হোক না কেনো, হয়তো এটা থেকে বেরুনো সম্ভব না আমাদের কারো পক্ষেই। অনেক চিন্তা করে যা মনে হয়, এটা মানুষের অবচেতনে প্রোথিত একটা ব্যাপার – সেই আদিম কালে মানুষ যখন প্রকৃতি আর অন্য প্রাণীদের সাথে সংগ্রামে ব্যস্ত, তখন তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হতো এক মুহুর্তেই যে, সামনে যা এসেছে তা শত্রু না মিত্র। আর সেই ক্ষণিক-সিদ্ধান্ত নিতে হলে চেহারা দেখে আন্দাজ করাটাই একমাত্র কৌশল ... আচরণ-বিচার করার সময় কোথায়।
পূর্বপুরুষদের সেই প্রবৃত্তি আজও হয়তো রয়েছে আমাদের মনের গহীনে, তাই দেখামাত্র কাউকে ফেলে দেই স্টেরিওটাইপে, লেবেল লাগিয়ে দেই ইচ্ছে মতো। হয়তো এই প্রবৃত্তির কবল থেকে মুক্তি নেই আমাদের, যতোই চেষ্টা কসরত করি না কেনো।
হয়তোবা এ আমাদের মানবিক সীমাবদ্ধতা।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): এলোমেলো ভাবনা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার দিনকাল বিভাগে ।
রাগিব বলেছেন:
মূল পাতায় এখনো রাত ১২টার পরের কোনো পোস্ট দেখতে পাচ্ছিনা, আমার এই পোস্টটাও দেখছিনা।
তীরন্দাজ বলেছেন:
আমি আপনার পোষ্টটি প্রথম পাতায় দেখতে পাচ্ছি। default হিসেবে সংকলিত পোষ্ট নেয়া হয়েছে। আপনি ক্রমানুসারে পোষ্টে ক্লিক করলেই আপনারটি পাবেন।তবে আমার মনে হয়, default হিসেবে ক্রমানুসারে পোষ্ট নেয়া উচিত। যার দরকার তিনি ফিলটার করে সংকলিত পোষ্টে যাবেন।
লেখক বলেছেন: হুম, এতোক্ষণে বুঝতে পারলাম ![]()
ইরতেজা বলেছেন:
স্টেরিওটাইপ নিয়ে অনেক কিছু জানলাম রাগীব ভাই। আশির দশকের নাটকের কথা আপনার মনে আছে দেখি। আমার তেমন কিছু মনে নাই
লেখক বলেছেন: বিশের কোঠা প্রায় পেরুলাম বলে, আশির দশকের নাটক তো মনে থাকবেই ![]()
মানুষ বলেছেন:
এই পোষ্টটাকে ষ্টেরিও টাইপ পোস্ট বলবো কিনা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না।
লেখক বলেছেন: হা হা, আঁতলামীর স্টেরিওটাইপে এই পোস্টটাকে নির্দ্বিধায় ফেলতে পারেন। ![]()
ইরতেজা বলেছেন:
ঠিকাছে। আপনি আমার এক বছরের সিনিয়র ভাই।
ভালা লাগলো, ঘুমাইতে জাবার আগে কিচু জানতে পারলাম।
লেখক বলেছেন: দইন্যবাদ। ভালো করে ঘুমান। ![]()
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন:
"অনেক ভালোলেগেছে ....." এমন একটা স্টেরিওটাইপড কমেন্ট করেছিলাম , কোথায় হাওয়া হয়ে গেলো ? তবে লেখাটা একদম ইউনিক হয়ে গেল , ঝকঝকে , স্টেরিওটাইপের ধারে কাছেও নেই ।
প্রিয় পোস্টে যোগ করে নিয়েছি +++
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, মেহরাব। ইদানিং অনেক সময়ই কমেন্ট গায়েব হয়ে যায়। সিস্টেমে কিছু বাগ রয়ে গেছে ...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ![]()
রাশেদ বলেছেন:
ভাল্লাগছে।
হ্যারি সেলডন বলেছেন:
খতরনাক রকমের ভাল পোস্ট। খুব ভাল লেগেছে।
লেখক বলেছেন:
কোনো স্টেরিওটাইপে ফেলেননি তো? ধন্যবাদ।
হ্যারি সেলডন বলেছেন:
স্টেরিওটাইপ মানে, খতরনাক স্টেরিওটাইপ!!
হ্যারি সেলডন বলেছেন:
বলতে ভুলে গেছিলাম, প্রিয়তে ঝুলিয়ে রাখলাম।
জ্বিনের বাদশা বলেছেন:
আমিওতো প্রথম পাতায় পোস্টটাকে দেখছিনা!!!লাস্ট পোস্ট যেটা দকেহছি সেটা গতকাল বিকেল ৫ টায় করা ... ?!?!
লেখক বলেছেন: কন্ট্রোল শিফট এফ ৫ দেন, তার পর প্রথম পাাতার উপরে ডানের ক্রমানুসারে ট্যাব চাপেন।
জ্বিনের বাদশা বলেছেন:
বাঁচালেন ... নোটিশবোর্ডের পোস্টটাও এইমাত্র পড়লাম ... নতুন বিপ্লব সাধিত হলো মনে হয় ... কিন্তু সংকলিত পোস্টে এই পোস্টটা নেই কেন? এত ভালো পর্যবেক্ষণ
বাফড়া বলেছেন:
স্টিরিওটাইপ থিংকিং নিয়ে জ্বিনের বাদশার একটা পোস্ট আচে ওয়ানওয়ে থিংকিং নামে (বা ঐরকম কিছু)। উনি এই পোস্টের কমেন্টে ঐটার লিন্ক দিলে পাবলিক এক টিকেটে দুই সিনেমার মজা পাইত। এক টপিকের উপর দুই লেখকের দুইটা জটিল লেখা একসাথে পড়লে একশন টা ভাল হইত
লেখক বলেছেন: @জ্বিনের বাদশা ভাই, জনতার দাবি মেটাতে লিংকটা দিয়ে দেন না ... ![]()
বাফড়া বলেছেন:
জ্বিনের বাদশা'র অনুমতি ছাড়াই দিলাম (চাইলে মুছতে পারবেন)। লিন্ক দিতে পারি না তাই এভাবে দিলাম।Click This Link
লেখক বলেছেন: পড়লাম, কঠিন লেখা এটাও!
মুনতাসির আলম বলেছেন:
রাগিব ভাই, শুভ জন্মদিন। ভাল থাকবেন।
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন:
হি হি হি
সমালোচনাকারী বলেছেন:
খুবই চমতকার লেখা।
প্যান্ট ঢিলা মাস্তান বলেছেন:
অসাধারন! রাগিব নামে ক্লিক না করলেতো বুঝতামই না নতুন পোষ্ট লিখেছেন। প্রথম পাতায় লেখা শো হচ্ছে না কেন?
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
ক্রমানুসারে পোস্টে আছে। দুই ট্যাব না দেখলে কন্ট্রোল এফ ফাইভ চেপে রিফ্রেশ করলেই দেখতে পাবেন।
আরিফুর রহমান বলেছেন:
Click This Linkরাগিব ভাই, এই বিষয়ে কিছু করা যায়?
গুগলম্যাপে তো বঙ্গদেশ পুরো ফকফকা!!
মুজিব মেহদী বলেছেন:
নাটকে স্টেরিওটাইপের ব্যবহার বেশি থেকে যায় যোগাযোগের প্রশ্নে। ভেবেই নেয়া হয় যে, এই হলেই কেবল সহজে দর্শকরা বুঝবে যে চরিত্রটা কোন জাতের।লেখক বলেছেন: মুজিব ভাই, সমস্যাটা এখানেই ... অনেক ক্ষেত্রেই স্টেরিওটাইপটা হয়ে যায় লেখকের প্রেজুডিসের উপরে নির্ভরশীল। উদাহরণ হিসাবে আশির দশকের নাটকের অধিকাংশ কমিক রিলিফের আঞ্চলিক ভাষার ব্যাপারটা দেখুন ... অধিকাংশ নাটকেই নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, বা ঢাকাইয়া কুট্টিকে ধরা হচ্ছিলো ভাঁড়। এখন অবশ্য সেটা কমেছে।
স্টেরিওটাইপ .........বিষয়টি নিয়ে লিখে আপনি আমাদের বিবেকের যে দরোজাটায় টোকা দিতে চেয়েছেন সেখানে শব্দ শুনতে পেরেছি বোধয়। আসলেই এটা আমাদের মানবিক সীমাবদ্ধতা হয়ত। তা নাহলে এদেশের ছেলেরা যখন বিদেশে যেয়ে হোটেলে কাজ করে তখন তেমন খারাপ বোধ করেনা যতটা নিজের দেশে। অর্থাৎ আমরা স্টাটাসের স্টেরিওটাইপিং করি পদে পদে। অথচ এই স্টেরিও টাইপিং থেকে বের হয়ে এসে যদি ' কোন কাজ ই ছোট নয়' মন্ত্রে আমরা দীক্ষিত হতে পারতাম আজ এই স্টেরিও টাইপ উন্নয়নের জোয়ারে............যেই লাউ সেই কদুর মতই পড়ে থাকতে হত না।
আপনার পোস্টটি খুব সুন্দর হয়েছে রাগিব ভাই।+
ঝড়ো হাওয়া বলেছেন:
ভালো লেগেছে।
স্বাক্ষর শতাব্দ বলেছেন:
"স্টেরিওটাইপিং নিয়ে যতই আলোচনা করা হোক না কেনো, হয়তো এটা থেকে বেরুনো সম্ভব না আমাদের কারো পক্ষেই।"
মুহিব বলেছেন:
আমার এই মানবিক সীমাবদ্ধতা অতিক্রমের অবিরাম চেষ্টায় আছি
লেখক বলেছেন: আর তারিফ হলো স্টেরিওটাইপ উইকিপিডিয়ান ![]()
(অ)গাণিতিক বলেছেন:
রাগিব ভাই!আপনি কিন্তু 'ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট' সে হিসেবে বাংলা সিনেমার স্টেরিওটাইপড নায়কদের চেয়ে কোন অংশে কম না!!
শিট সুজি বলেছেন:
+


















