আমার প্রিয় পোস্ট
- ক্ষমতার রাজনীতিতে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণার নিন্দা জানাই। - ত্রিভুজ
- বাঙ্গালি দের হিন্দি কথা!!!!!!!!!! - লাবনি
- শাবাশ নতুন ভারত! - অরুন্ধতি রায় - ত্রিভুজ
- Elmina Castle...Where thousands of African slaves died. - প্রীটি সোনিয়া
- আমি নাস্তিক। - পুতুল
- ইসলামে বিবাহ এবং বাল্যবিবাহে আজকের চোখে- - অপ বাক
- সতত জনম; মূল: মৃণাল সেন - ফাহমিদুল হক
- অর্থনীতির সহজ পাঠঃ বিষয়- বিদেশি বিনিয়োগ - দিনমজুর
- বাঙালি মুসলমানরাই সবচেয়ে লিবারেল? - ফাহমিদুল হক
- 'মকছুদোল মো'মেনীন ও নারী শিক্ষা বা বেহেশতের কুঞ্জী' বইটি কি নিষিদ্ধ হওয়া উচিত নয়? - মুজিব মেহদী
- ব্ল্যাক হোলের সাথে ম্যানহোলের এবং হোয়াইট হোলের সাথে সুড়ঙ্গমুখের মিল আছে- সত্যি কথা কিন্তু! - অনিশ্চিত
- ব্লগারদের মিলন মেলার কিছু ছবি !!! - সুখী মানুষ
- ত্রিশ লক্ষ শহীদ : মিথ নাকি বাস্তবতা ? - লাইটহাউজ
- ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতির বইয়ে নবীর ছবি!! - মুকুট
- পরীক্ষাগারে বিগ ব্যাং: উত্তর মিলবে অনেক প্রশ্নের - অনিশ্চিত
- বিদেশী সাহায্য ছাড়া কি বাংলাদেশ চলতে পারে? - ফাহমিদুল হক
- বিবর্তন বাদঃ প্রজাতির জন্ম? - উৎস
- বঙ্গবন্ধু কি সত্যিই দালালদের ক্ষমা করেছিলেন? আসুন নতুন করে ট্রুথ কমিশন গঠনের দাবি জানাই - শওকত হোসেন মাসুম
- রিফ্যুজি ক্যাম্পের শিশুরা : ১৯৭১ - অমি রহমান পিয়াল
- সৃষ্টিকর্তার সন্ধানে (প্রথম পর্ব) - ত্রিভুজ
- আঙ্গুলের প্রতীকী ভাষা - সাইমুম
- আমেরিকার চামচামি এবং আমাদের মানসিকতা! - মানবী
প্যাথেটিক হোমিওপ্যাথি
২৩ শে অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১২:৫৪
হোমিওপ্যাথির ফিলোসফিতে দুটো এমন জিনিস আছে যেগুলো মেনে নেওয়া বর্তমান বিজ্ঞানের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রথমত, "like cures like" - মানে, যে বস্তু বা রাসায়নিক আপনার অসুখের কারণ, সেই কারণ দিয়েই তৈরী হবে অসুধ। যেমন, বিছুটি পাতা দিয়ে তৈরী করা যেতে পারে চুলকানির অসুধ।
আরেকটি সমস্যা হল ডাইলুশন। হোমিওপ্যাথির ফিলোসফিতে, অসুধ যত বেশী দ্রবণে মেশানো হবে, তত তার শক্তি বাড়বে। অন্য ভাবে, দ্রবণে মূল উপাদানের ঘনত্ব কমলে, অসুধের শক্তিও বাড়বে!!
ভেবে দেখা যাক ঠিক কতটা ডাইলুশনের কথা বলা হচ্ছে। সাধারণভাবে, ১০ এর মাত্রায় ঘনত্ব প্রকাশ করা হয় আর তা বোঝাতে রোমান হরফ X ব্যবহৃত হয়। তার মানে দাঁড়ায়, 1X হল 1/10, 2X হল 1/100 আর 3X হল 1/1000 এরকম। সাধারণভাবে, 30X অসুধ বাজারজাত হয়, যাতে ১-এর পিঠে ৩০টা শূন্য পরিমাণ জলে এক পরিমাণ অসুধ মেশানো হয়। অতি উত্তম!!
তাও নাহয় মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু কিভাবে বাজারে 30C অসুধ পাওয়া যায়? X যেমন 10 গুণ করে বাড়ে, C বাড়ে 100 গুণ করে। মানে, 1C হল 1/100, 2C হল 1/10000 আর 3C হল 1/1000000 এরকম। এবার ভেবে দেখুন 30C মানে কি দাঁড়ায়। ১ এর পিঠে ৬০টা শূন্য পরিমাণ জলে এক পরিমাণ অসুধ। যদি অসুধের পরিমাণ ১ অণূ ধরে নিই, তাহলে আমার ১ এর পিঠে ৬০টা শূন্য অণূর জল লাগবে সেটা মেশানোর জন্য। কতটা জল? পৃথিবীর ৩০ বিলিয়ন গুণ আকারের একটা পাত্র লাগে সেই জল রাখতে।
তার মানে, আপনি 30C Nux vomica অসুধ খেলে তাতে ১টি Nux অণুও না থাকার সম্ভাবনা খুবই বেশী। হোমিওপ্যাথির বিজ্ঞানীরা আবার নতুন একধরনের থিয়োরী আমদানি করেছেন - জল নাকি "মনে রাখতে" পারে তাতে কি মেশানো হয়েছিল। বলাই বাহুল্য, এরকম কোনো memory এখনো অবধি খুঁজে পাওয়া যায় নি। আর ঘনত্ব কমলে সেই মনে রাখার ক্ষমতা বেড়ে যায় - এমন ভাবাটাও অবাস্তব।
ভাবতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি আর এই চিকিৎসা ব্যবস্থা আমাদের দেশে ক্রমাগত জনপ্রিয় হয়ে চলেছে - শুধুমাত্র বিশ্বাসের ওপর ভর করে।
হোমিওপ্যাথি নিয়ে রিচার্ড ডকিন্সের এই ভিডিওটা না দেখলেই নয়। যারা হোমিওপ্যাথিতে বিশ্বাস করেন তারা অতি অবশ্যই দেখবেন ...
১) রিচার্ড ডকিন্সের ভিডিও
২) হাতুড়েদের হাতুড়ি
তারিক হাসান খান নিপু বলেছেন:
ধন্যবাদ !
অনিশ্চিত বলেছেন:
দিগন্ত, আপনার লেখাটি চমৎকার হয়েছে। এ বিষয়ে বেশ আগে চলতিপত্রে লিখেছিলেন সম্ভবত ফ. র. মাহমুদ হাসান। তার লেখার বিরোধিতা করে কয়েকজন হোমিও ডাক্তারও লিখেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউই জনাব হাসানের যুক্তির সাথে সুবিধা করতে পারেন নি।
অনিশ্চিত বলেছেন:
লেখাটির লেখকের নাম ফ. র. আল-সিদ্দিকও হতে পারে।
সত্য সুন্দর বলেছেন:
কথায় বলে বিশ্বাসে মিলায় রতন, তর্কে বহু দুর।আসলে সম্ববত এ চিকিত্সা সম্বন্ধে আপনার তেমন কোন ধারনাই নেই। আপনি বলেছেন অনেক বড় পাত্রের কথা। আসলে ডায়ালুশন এর জন্য এত বড় পাত্রের কোন প্রয়োজন ই নেই। এ চিকিত্সার আবিষ্কারক হ্যানিম্যান বিশ্বাস করেন ইশ্বর নিরাকার, তিনিই সবচেয়ে শক্তিশালী। হ্যানিম্যান আসলে একজন এলোপ্যাথিক চিকিত্সক ছিলেন। তাঁর পর পর তিনটি ছেলে মারা যাওয়ার পর তিনি এলোপ্যাথিক চিকিত্সা ছেড়ে দিলেন এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা আবিষ্কার করলেন। আমি বলতে চাইনা যে আপনার ও তিনটি ছেলে মারা গেলে তার পর আপনি এ চিকিত্সা সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জন করুন। আপনি এখনই পারেন সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে জ্ঞানার্জন করতে। এবার আপনাকে ডায়ালুশনের পদ্ধতি জানাচ্ছি। দয়াকরে মনে রাখার চেষ্টা করবেন এবং অন্যকেও জানাবেন। প্রথমেই জেনে নিন হোমিও ও এলোপ্যাথি চিকিত্সার মুল সোর্স প্রয়শঃই এক। ১ ফোটা মুল আরোক নিয়ে তার সাথে ৯৯ ফোটা এ্যালকোহল মিশিয়ে একটা শিশিতে ভরে ১০ বার সমতালে ঝাঁকি দিলে ১ শক্তি বিশিষ্ট ওসুধ তৈরী হয়। সেই ১ শক্তি বিশিষ্ট ওসুধ হতে ১ ফোটা নিয়ে আবার ৯৯ ফোটা এ্যালকোহল মিশিয়ে একটা শিশিতে ভরে ১০ বার সমতালে ঝাঁ কি দিলে ২ শক্তি বিশিষ্ট ওসুধ তৈরী হয়। এভাবে ৫ শক্তি বিশিষ্ট ওষুধ পর্যন্ত মূল সোর্সের উপস্থিতি বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমান করা সম্ভব কিন্তু ৬ শক্তি বিশিষ্ট ওসুধে মূল সোর্সের উপস্থিতি বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমান করা সম্ভব নয় আর সেখান থেকেই হোমিওপ্যাথি ওষুধের প্রয়োগ শুরু হয়। হ্যানিম্যানের মতে যেহেতু ইশ্বর নিরাকার এবং তিনিই সবচেয়ে শক্তিশালী সেহেতু এই নিরাকার ওষুধই পারে আপনার বর্তমান মতিভ্রমের সুচিকিত্সা করতে। বাজারে বাংলায় হোমিওপ্যাথিক সফটওয়্যার পাওয়া যাচ্ছে যার নাম রেমস। যার রুপকার - আসলাম, ফোন - ০১৭১১৮৮৮৯৭৪। বাসায় কম্পিউটার থাকলে সেটি সংগ্রহ করুন এবং বাস্তবতায় ফিরে আসুন।
জ্বিনের বাদশা বলেছেন:
দিগন্ত, ধন্যবাদ চমৎকার লেখাটার জন্য।তবে, সামহাউ এন্টিবায়োটিক/ এলার্জেনের সাথে মিল আছে না?
... কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলাআরেকটা ব্যাপার ... আমি জানতাম একটা দ্রবনকে (X,C,M যেটাই হোক) তৈরীর সময় যতবার ঝাঁকানো হয়, পাওয়ারকে সেই বারের সংখ্যা আর X,C,M দিয়ে প্রকাশ করা হয় ... যেমন, একটা C দ্রবনকে ৩০ বার ঝাঁকালে সেটার পাওয়ার হবে 30C, যেখানে যতবেশী ঝাঁকানো হয় ততবেশী শক্তিশালী ভাবা হয় ওষুধটাকে
জ্বিনের বাদশা বলেছেন:
সত্যসুন্দর যা বলছেন আমার জানার সাথে মিলছেনা ... সম্ভবতঃ ভুল জানতাম ... সারেন্ডার করে নিচ্ছি
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন:
দিগুদাআইসাই ছক্কা
ছাড়ায়া গেলো মক্কা!
৫ আর প্রিয় পোস্ট!
মাগার শুধু এ্যালকোহলই কি এর মূল উপাদান? আচ্ছা আমি কিন্তু অবিশ্বাসীদের দলে, তাও যা দেখেছি রোগ সেরেছে এমন রোগীর সংখ্যা বেশ কম! তবে কালে ভদ্রে দেখেছি রোগ সারতে। সেজন্য এটার উপর খুব একটা বিশ্বাস নেই! তবে সুন্দর একটা জিনিস রিভিল করলেন!
দিগন্ত বলেছেন:
সত্যসুন্দর একদম ঠিক পদ্ধতি বলেছেন। ১ ভাগের সাথে ৯৯ ভাগ মেশালে হয় ১/১০০ আর তার সাথে আবার ৯৯ ভাগ জল মেশালে হয় ১/১০০০০. আমিও সেরকমি বলেছি।এবার ভেবে দেখুন, সব ব্যাপারটাই এখানে দাঁড়িয়ে আছে - "হ্যানিম্যানের মতে যেহেতু ইশ্বর নিরাকার এবং তিনিই সবচেয়ে শক্তিশালী"। এ বিষয়ে আমার প্রশ্ন হল তাহলে ওষুধ খাবার দরকারই বা কি? শুধু জল খেলেই তো ঠিক হয়ে যাবার কথা ... সেই নিরাকার ঈশ্বরের কৃপায়।
দিগন্ত বলেছেন:
"সামহাউ এন্টিবায়োটিক/ এলার্জেনের সাথে মিল আছে না?" - আপনি ভিডিওটাও দেখেন না। এন্টিবায়োটিক আসলে আপনার এন্টিবডিগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু হোমিওপ্যাথিতে এত ডায়লুশনের পরে জল ছাড়া কি কিছু থাকে সত্যি?
দিগন্ত বলেছেন:
আরে ভাই আমি বিবাহিত, তাও ২ বছর হয়ে গেছে আমার বিয়ের। আমার বৌ এখন ঢাকায় আর আমি হায়দ্রাবাদে। মনের দুঃখে আর এবার পূজোই দেখলাম না।
জ্বিনের বাদশা বলেছেন:
ভাবছি, এটা পরীক্ষা করে দেখা যায়না?'আরোক' আছেইতো ৪০ রকমের মনে হয় ... একটা একটা করে নিয়া পিওর এ্যালকোহলের/জলের ৩০সি দ্রবন বানাইয়া, তারপর সেটা এ্যানালাইসিস করে দেখলে কি শুধুই জল বা এ্যালকোহল পাওয়া যাবে কিনা ...সেটার সম্ভাবনাই যদিও বেশী, তাও দেখা যাইতে পারে ঘটনা আসলে কি? ... জল বা এ্যালকোহলে 'আরোক' ঝাঁকাইলে কি সেটা ইউনিফর্ম দ্রবন হয়না? ... চিন্তার বিষয় !!
তবে হোমিওপ্যাথ নিয়া রিসার্চ শুরু হইছে দেখলাম ... মাছের কাঁটা গলানোটা আমি নিজে দেখছি কাজ করে
দিগন্ত বলেছেন:
http://en.wikipediaorg/wiki/Homeopathyআপনি এখানে ক্লিনিকাল ট্রায়াল গুলো পড়ে দেখতে পারেন।
দিগন্ত বলেছেন:
বিশ্বাসে মিলায় বস্তু ... বলে না? আরেকটা কথা, ভেবে দেখুন, হোমিওপ্যাথির পক্ষে যারা বলেন তারা সবাই মনে করেন - অসুখ সারতে হোমিওপ্যাথিতে সময় বেশী নেয় কিন্তু সাইড এফেক্ট নেই। ভেবে দেখুন তো তার সাথে "জল খেয়ে অসুখ সারানোর" মিল আছে কিনা?
দিগন্ত বলেছেন:
আর বোকার কথাই যদি বলেন তবে বলি আমাদের দেশে তো মন্দিরে বা দরগায় পুজো দিয়ে বা মানত করে রোগ সারানোর লোকের সংখ্যাও কমছে না। তাছাড়া হোমিওপ্যাথি ডাক্তারেরা যে অন্য মাত্রায় একি অসুধ বিক্রি করেন না তা কিকরে জানা সম্ভব? আমি জানি আমাদের পাড়ায় এক ডাক্তার ওই একই পদ্ধতি ব্যবহার করে, নিজেই অসুধ বানায়। সে খুবই নামকরা, কারণ আমার ধারণা তার অসুধে সে মাত্রা অন্য করে দেয়।
মানুষ বলেছেন:
রোমিও হোমিও জমিও
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন:
তা ভাই, আপনে কোন দুঃখে হায়দ্রাবাদে?
দিগন্ত বলেছেন:
ভাই আমি ভারতীয়, আমি মাইক্রোসফটে হায়দ্রাবাদে চাকরি করি আর আমার বৌ বাংলাদেশী। তাই উনি ঢাকায় বাপের বাড়ি গেছেন। এই তো ব্যাপার।
আপনি আমার বল্গে পোষ্ট (বিজ্ঞান কি)মন্তব্যে একটা লিন্কস দিয়েছে, আপনার বিজ্ঞান বিষয়ক পোষ্টের। আমি একটি ডায়লেকটিক শুরু করতে চেয়েছিলাম যা ক্রমাগত ভাবে বিষয়টিকে একটি বির্তকের মধ্য দিয়ে পরিনতির দিকে নিয়ে যাবে।
তা আবার শুরু করা যায়, সকলের সহযোগিতা প্রতাশা করিছি ।


















শুধু মাত্র বিশ্বাসের থেকে সৃষ্টি হলে তা কখনই গ্রহনযোগ্য হবে না । তবে এই চিকিৎসা পদ্ধতির তাত্বিক দিকটি যদিও ভাববাদী দর্শন থেকে উদ্ভব তবে ব্যবহারিক দিক থেকে ভাল ও কার্যকর কিছু ফলাফল ব্যক্তিগতভাবে আভিজ্ঞতায় আছে ।
আবার বর্তমানে এই পদ্ধতির বিভিন্ন ধারায় বিভক্ত তাদের চিগিৎসা দর্শনও ভিন্ন ভিন্ন তাই বিষয় নিয়ে আরো জান্তে চাই । সূত্র দিলে উপকৃত হব ।